এক সিনিয়রের বক্তব্যে ক্রিকেটারদের মাঝে অসন্তোষ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, সন্ধ্যা ৭:০৯

সিনিয়র করেসপন্ডেন্টঃ করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শুরুর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)। ইতোমধ্যে কয়েকবার মিটিংও করেছেন ক্রিকেটাররা। গত মঙ্গলবার রাতে কোয়াবের আয়োজনে অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন বিসিবির পরিচালক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) কাজী ইনাম আহমেদ ও বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

মঙ্গলবার রাতে কোয়াবের মিটিংয়ে জাতীয় দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটারের বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়েছেন সাধারণ ক্রিকেটাররা। সরাসরি আপত্তি না জানালেও লিগ শুরুর বিষয়ে তার বক্তব্য, মনোভাবে নাখোশ হয়েছেন ক্রিকেটাররা। লিগ শুরু নিয়ে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা যখন ইতিবাচক তখন ওই ক্রিকেটার আরও বিলম্ব করতে বলছেন।

কোয়াবের মিটিংয়ে জাতীয় দলের তারকা সিনিয়র ক্রিকেটারের বক্তব্য সম্পর্কে নাম প্রকাশে এক ক্রিকেটার বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আমরা সবাই খেলার ব্যাপারে বলেছি। বলেছি যেভাবে হোক খেলাটা ফেরান। বিসিবিও পরিকল্পনা করছে যে বদ্ধ মাঠে কোয়ারেন্টাইন করে কি করে লিগ শেষ করা যায় এসব চিন্তাভবনা যখন হয়েছে আমরা প্লেয়াররা বলেছি ভাই ঈদের আগে কিছু টাকার ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমরা এসব বলার পরে উনি বলেছে, আপনারা সবাই সিদ্ধান্ত নিলে খেলব সেটা কোন সমস্যা নয়। কিন্তু যদি খেলা শুরু হয় তাহলে এটা হতে পারে, ওটা হতে পারে, তখন আমাদের কী হবে? ওনার কথা শুনে মনে হয়েছে এই সময়ে খেলা দরকার কি? প্লেয়ার, সিসিডিএম, বিসিবি পজিটিভ। সবাই খেলা শুরু করতে চায়।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা করোনাকালেও নিয়মিত পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন। বিসিবি তাদের বেতন কাটেনি। আর্থিক নিরাপত্তা থাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর বিষয়ে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অথচ দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটার লিগ না হওয়ায় আর্থিক অনটনে পড়ে গেছেন। কারণ এক রাউন্ড পরই বন্ধ হয়ে গেছে লিগ। অনেক ক্লাবই পারিশ্রমিক দেয়নি ক্রিকেটারদের।

ওই ক্রিকেটার বলেন, ‘এখানে আরো একটি ব্যাপার আছে। এখনও যদি বিসিবি খেলা না ফেরায় তাহলে কোন দেশই এদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে আসবে না। আমার ধারণা এটা বিসিবিও বুঝেছে যে আন্তর্জাতিক খেলা ফেরাতে হলে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ফেরাতে হবে। জাতীয় দলের প্লেয়ারদের অবশ্য প্রিমিয়ার লিগ না হলেও কিছু হবে না। মাস গেলে ৬ লাখ টাকা বেতন পায়। এই টাকা দিয়ে আমরা যারা শুধুই প্রিমিয়ার লিগ খেলি, তাদের সারাবছর চলে যায়। বেসিক খরচে ৬ লাখ টাকায় আমরা ১২ মাস চালাতে পারি, ৫০ হাজার টাকা করে মাসে খরচ। অনেকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে মাস চালিয়ে ২ লাখ টাকা সঞ্চয়ও করতে পারে।’