বাটলার-ওকসের দৃঢ়তায় সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

নট আউট ডেস্ক
রবিবার, ০৯ আগষ্ট ২০২০, সকাল ১০:১২

দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ম্যানচেস্টার টেস্টে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে গেলো ইংলিশরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারীদের দেয়া ২৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অলরাউন্ডার ক্রিস ওকসের অপরাজিত ৮৪ রানের সুবাদে এক দিন বাকি থাকতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো জো রুটের দল।

২৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৭ রানের মাথায় ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। জয়টা তখন ফিকে হতে শুরু করে স্বাগতিকদের। এরপরই ষষ্ঠ উইকেটে জস বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৯ রানের জয়সূচক জুটি গড়েন ওকস। দু'জনই শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলতে থাকে পাকিস্তানি বোলারদের উপর। ১০১ বলে ৭৫ রান করে ইয়াসির শাহর বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে বাটলার দলের জয়টা হাতের নাগালেই নিয়ে আসেন।

পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস এবং নাসিম শাহ।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান বৃষ্টি বাগড়ায় প্রথম দিনে খুব বেশি এগুতে পারেনি। প্রথম দিনে ২ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে জমা করে ১৩৯ রান। বাবর অপরাজিত থাকেন ৬৯ রানে আর শান মাসুদ অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে। ২ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। আগের দিনের ৬৯ রানে অপরাজিত থাকা বাবর আজম এদিন কোন রান না করেই ফিরেন প্যাভিলিয়নে। আগের দিনে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার শান মাসুদ দলের বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে তুলে নেন চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। এই নিয়ে টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরির পরও অবশ্য থামেননি মাসুদ। নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তান উইকেট হারাতে থাকলেও তাঁর ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ১৫৬ রান করে স্ট্রুয়ার্ট ব্রডের বলে এলবিডব্লিউ হন মাসুদ। তাঁর ব্যাটে ভর করেই দলীয় তিনশো পার করে পাকিস্তান।

অপরদিকে শেষ দিকে ৪৫ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে শক্ত পুঁজি এনে দিতে অবদান ছিলো স্পিনার শাদাব খানেরও। শেষ পর্যন্ত ইংলিশ পেসারদের তোপে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। স্বাগতিকদের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেছেন জফরা আর্চার এবং স্ট্রুয়ার্ট ব্রড। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন জেমস অ্যান্ডারসন ও ডম বেস।

৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে প্রথম ইনিংসে দলীয় মাত্র ১২ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে জো রুট এবং অলি পোপ ৫০ রানের জুটি গড়ে দলের প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেস্টা করেন। কিন্তু ৬২ রানের মাথায় অধিনায়ক রুটকে (১৪) মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ।

এরপর পোপ এবং বাটলার ৬৫ রানের জুটি গড়ে ৬২ রান করে পোপ বিদায় নিলে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরে ইংল্যান্ড। শেষ দিকে পাক স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর কোন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। ২১৯ রানে শেষ হয় ইংলিশদের প্রথম ইনিংস।

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন পোপ। এছাড়া বাটলার ৩৮, ওকস ১৯, রুট করেন ১৪ রানে। শেষ দিকে ব্রডের ২৯ ও আর্চারের ১৬ রানের সুবাধে দলীয় ২০০ পার করে ইংল্যান্ড।

পাকিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট নেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। এছাড়া শাদাব খান ও মোহাম্মদ আব্বাস নেন ২টি করে উইকেট। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহ নেন ১টি করে উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের ইনিংসে শতক হাঁকানো শান মাসুদ এবার ফিরেন শূন্য রানেই। এবারও শিকার হন স্টুয়ার্ট ব্রডের। এরপর আবিদ আলি – আজহার আলিরাও ফিরে যান দ্রুতই। বাবর বিদায় নেয় ৫ রান করেই। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে সফরকারী পাকিস্তান। তৃতীয় দিন শেষে ১৩৭ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

এরপর চর্তুথ দিনের শুরুতে খুব বেশি এগোতে পারেনি আজহার আলীর দল। পাকিস্তানের শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন স্টুয়ার্ট ব্রড এবং জফরা আর্চার। স্বাগতিকদের হয়ে ব্রড ৩৭ রানে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ওকস ও বেন স্টোকস ২টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ইয়াসির শাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসঃ ৩২৬/১০ (১০৯.৩ ওভার) (মাসুদ ১৫৬, বাবর ৬৯; ব্রড ৩/৫৪, আর্চার ৩/৫৯)

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসঃ ২১৯/১০ (৭০.৩ ওভার) (পোপ ৬২, বাটলার ৩৮; ইয়াসির ৪/৬৬, আব্বাস ২/৩৩)

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসঃ ১৬৯/১০ (৪৬.৪ ওভার) (ইয়াসির ৩৩, শফিক ২৯; ব্রড ৩/৩৭, ওকস ২/১১)

ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসঃ ২৭৭/৭ (৮২.১ ওভার) (ওকস ৮৪*, বাটলার ৭৫; ইয়াসির ৪/৯৯, আব্বাস ১/৩৬)

ফলাফলঃ ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরাঃ ক্রিস ওকস