সাড়া জাগানিয়া যত ফিক্সিং কান্ড

মুহাম্মদ আশিক সৈকত
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, সকাল ১০:১১

ক্রিকেটকে ভদ্রলোকের খেলা বলা হলেও এতে যে কলঙ্কের দাগ নেই, সেটা কিন্তু কস্মিনকালেও বলা যাবেনা। কাড়ি কাড়ি টাকার লোভ সামলাতে না পেরে অনেক ক্রিকেটারই জুয়াড়িদের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পা দেয় অর্থাৎ ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়ে। আজ এমনই সাড়া জাগানো কয়েকটি ফিক্সিং কান্ডের কথা জানবো- 

সেলিম মালিক - আতাউর রহমান 

ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটার  সেলিম মালিক। সাবেক এই পাক অধিনায়ক ১৯৯৪- ৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের পাকিস্তান সফরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন ও মার্ক ওয়াহকে খারাপ খেলার প্রস্তাব দেন, সেইসাথে তাদের অগ্রিম দুই লাখ ডলারও প্রদান করেন। অপরদিকে সাবেক পাক পেসার আতাউর রহমানের ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে পড়াটা ছিল কিছুটা দূর্ভাগ্যতার শামিল৷ ১৯৯৮ সালে আতাউর তার এক মন্তব্যে পরিষ্কার করেন যে, ১৯৯৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে ওয়াসিম আকরাম তাকে বাজে বল করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং এক লাখ রুপি দেয়। যদিও পরে বোর্ডের চাপের মুখে তিনি তার বক্তব্য পরিবর্তন করেন। এতে বেঁচে যান আকরাম কিন্তু আতাউরের ক্যারিয়ারই কার্যত শেষ হয়ে যায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ২০০০ সালে সেলিম মালিক ও আতাউর রহমানকে আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যদিও পরবর্তীতে তাদের আজীবন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, ওয়াসিম আকরামও ফিক্সিং এর সঙ্গে জড়িত ছিল কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ওয়াসিমের মত বোলারকে হারাতে চায়নি। আর তাই সেরা ফর্মে থাকা ওয়াসিমকে বাঁচাতে বলির পাঠা বানানো হয় বয়স  আটত্রিশ ছুঁইছুঁই সেলিম মালিক এবং অফ ফর্মে থাকা আতাউর রহমানকে।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন - হ্যান্সি ক্রোনিয়ে

দক্ষিণ আফ্রিকান হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ও ভারতীয় আজহারউদ্দীন এর ফিক্সিং কান্ডের যোগসূত্র যেন একই সুতোয় গাঁথা। ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রোনিয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগ আনা হলে ক্রোনিয়ে এক জবানবন্দিতে বলেন, "১৯৯৬ সালের ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে আমি আজহারের ফোন পাই। সন্ধ্যায় তার রুমে গেলে তিনি মুকেশ গুপ্তা নামক এক জুয়াড়ির সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ফিক্সিং সমন্ধীয় কথাবার্তা চলে। " অর্থের লোভ যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় ক্রোনিয়ের জন্য। তদন্তে বেড়িয়ে আসে, ভারতের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে তিনি কুম্বলের বলে আউট হওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও ইচ্ছাকৃতভাবে রানআউট হন। টাকার লোভে অন্ধ সাবেক প্রোটিয়া কাপ্তান ক্রোনিয়ে একই বছর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়েন। অপরদিকে সাবেক ভারতীয় দলপতি মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফিক্সিং করা ছাড়াও ১৯৯৭ ও ১৯৯৯ সালে পেপসি কাপে ম্যাচ গড়াপেটার সাথে যুক্ত ছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে আজহারউদ্দীন ও ক্রোনিয়েকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যদিও নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছরের মাথায় ক্রোনিয়ে এক বিমান দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান এবং ২০১২ সালে আজহারউদ্দীন এর আজীবন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়৷ 

সালমান বাট - মোহাম্মদ আসিফ - মোহাম্মদ আমির

২০১০ সাল। পাকিস্তানি জুয়াড়ি মাজহার মাজিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে লর্ডসে এক টেস্ট ম্যাচে  ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান বাটসহ দুই পেসার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির৷ জুয়াড়ি মাজিদের প্রস্তাব অনুযায়ী ঠিক করা হয়, ইংল্যান্ডের ইনিংস এর তৃতীয় ওভারের প্রথম বল, নবম ওভারের তৃতীয় বল এবং উনিশতম ওভারের তৃতীয় বলটি হবে নো বল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় ওভারে কাপ্তান সালমান বাট বল তুলে দেন তরুণ আমিরের হাতে। যথারীতি আমির প্রথম বলেই বিশাল এক নো বল করেন, যা ব্যাপক বিস্ময়ের জন্ম দেয়।  ইনিংসের দ্বিতীয় নো বল করেন তৎকালীন সেরা সুইং বোলার মোহাম্মদ আসিফ। উনিশতম ওভারে তৃতীয় এবং শেষ নো বলটি করানো হয় আমিরকে দিয়ে। তদন্তে জানা যায়, তিনটি নো বলের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড নিয়েছিলেন বাট-আসিফ-আমির। শাস্তিস্বরূপ সালমান বাটকে ১০ বছর, আসিফকে ৭ বছর ও কম বয়স বিবেচনায় আমিরকে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়। আমির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফলতার সাথে ফিরলেও বাট-আসিফের আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় আর ফেরা হয়নি। 

শ্রীশান্ত - চান্ডিলা - চাভান

২০১৩ সালে আইপিএলের ষষ্ঠ আসরে ফিক্সিং কেলেণ্কারিতে অভিযুক্ত হন রাজস্থান রয়্যালসের ভারতীয় পেসার শ্রীশান্ত। পুনে ওয়ারিয়র্স এর বিপক্ষে এক ওভারে ১৪ বা তার বেশি রান দেওয়ার চুক্তিতে তাকে দেওয়া হয় ৪০ লাখ রুপি। একই আসরে ফিক্সিং এ জড়ান রাজস্থানের আরো দুই বোলার চান্ডিলা এবং চাভান, বিনিময়ে পান ২০ লাখ রুপি। ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে তাদের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি শ্রীশান্ত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছেন এবং পুনরায় ভারতীয় জার্সি গায়ে চাপানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। 

মোহাম্মদ আশরাফুল

একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্ময় বালক বলা হতো তাকে, আশার ফুল ফুটিয়ে বাংলাদেশকে অনেক জয় উপহার দিয়েছেন। তাই আশরাফুলের স্পট ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়াটা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় এক ধাক্কা। ২০১৩ বিপিএলে ভারতীয় জুয়াড়ি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ম্যাচ ফিক্সিং এ জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন ঢাকা গ্লাডিয়েটরস অধিনায়ক। পরে নিজের স্বীকারোক্তিতে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তার ওপর আট বছরের নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে। তবে আপিল করে রেহাই পান তিন বছর। অবশেষে ২০১৮ সালে শাস্তির মেয়াদ শেষে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফেরার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


রাজস্থান রয়েলস বনাম সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ
৪০তম ম্যাচ, দুবাই
২২ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০

চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
৪১তম ম্যাচ, শারজা
২৩ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০

কলকাতা বনাম দিল্লী ক্যাপিটালস
৪২তম ম্যাচ, আবুধাবি
২৪ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৪টা
আইপিএল, ২০২০

কিংস এলিভেন পাঞ্জাব বনাম সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ
৪৩তম ম্যাচ, দুবাই
২৪ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০

ব্যাঙ্গালুরো বনাম চেন্নাই সুপার কিংস
৪৪তম ম্যাচ, দুবাই
২৫ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৪টা
আইপিএল, ২০২০

রাজস্থান রয়েলস বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
৪৫তম ম্যাচ, আবুধাবি
২৫ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০

সবশেষ ফলাফল [ ফলাফল পাতা ]

কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 5 উইকেটে জয়ী।
৩৮তম ম্যাচ, দুবাই
দিল্লী ক্যাপিটালস 164/5 (20.0)
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 167/5 (19.0)
২০ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
রাজস্থান রয়েলস 7 উইকেটে জয়ী।
৩৭তম ম্যাচ, আবুধাবি
চেন্নাই সুপার কিংস 125/5 (20.0)
রাজস্থান রয়েলস 126/3 (17.3)
১৯ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব সুপার ওভারে জয়ী
৩৬তম ম্যাচ, দুবাই
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স 176/6 (20.0)
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 176/6 (20.0)
১৮ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
কলকাতা সুপার ওভারে জয়ী
৩৪তম ম্যাচ, আবুধাবি
কলকাতা 163/5 (20.0)
সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ 163/6 (20.0)
১৮ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৪টা
আইপিএল, ২০২০
দিল্লী ক্যাপিটালস 5 উইকেটে জয়ী।
৩৪তম ম্যাচ, শারজা
চেন্নাই সুপার কিংস 179/4 (20.0)
দিল্লী ক্যাপিটালস 185/5 (19.5)
১৭ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
ব্যাঙ্গালুরো 7 উইকেটে জয়ী।
৩৩তম ম্যাচ, দুবাই
রাজস্থান রয়েলস 177/6 (20.0)
ব্যাঙ্গালুরো 179/3 (19.4)
১৭ অক্টোবর ২০২০, বিকাল
আইপিএল, ২০২০